রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বেহাল বিহারীপুর সড়ক, দুর্ভোগে কয়েক গ্রামের মানুষ বাহুবলে পূর্ব বিরোধে দফায় দফায় সংঘর্ষ, নিহত ২ আহত ৪০ সাতছড়ি বনে গাছ চুরি,সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত শুরু বিভাগীয় পর্যায়ে চুনারুঘাট ডিসিপি হাই স্কুলের খুদে বিজ্ঞানীদের চমক সাতছ‌ড়ি‌ জাতীয় উদ‌্যান থে‌কে সেগুনগাছ চু‌রি DEMON 71 এর আবারো চমক, বিভাগীয় বিজ্ঞান মেলায় প্রথম স্থান অর্জন স্বর্ণপদক জয় করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে যাচ্ছে বাহুবলের “DEMON 71” টিম অ্যাম্বুলেন্স গ্যারেজবন্দি, চালক সংকটে সচল কর্মকর্তার গাড়ি বর্তমানে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত আছে একটি শাটার বিকল, দেড় মাস গ্যারেজবন্দি বাহুবল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স

সাত বছরেও প্রতিষ্ঠিত হয়নি বাল্লা স্থল বন্দর

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : নানা জটিলতার কারণে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় অবস্থিত বাল্লা শুল্ক স্টেশনটি স্থল বন্দর হিসেবে রূপ নিতে পারেনি। জমি অধিগ্রহনে দীর্ঘ সুত্রতার কারণে স্থাপন করা যায়নি স্থল বন্দরের অবকাঠামো। ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি প্রশাসন ও বন্দর র্কতৃপক্ষের সমন্বয়ে স্থল বন্দরের জন্য ১৩ একর ভূমি অধিগ্রহণরে জন্য ভূমি জরিপ সম্পন্ন করেছিলো।

এলাকার প্রভাবশালীরা স্থলবন্দরের আশ পাশের জমি ও অধিগ্রহনের আওতাধীন সমুদয় জমি কম দামে আগে ভাগে কিনে এখন বেশী দাম দাবী করায় বন্দর কর্তৃপক্ষ জমি অধিগ্রহনে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে। যার কারণে বাল্লা বন্দর প্রতিষ্টা মুখ থুবড়ে পড়েছে। বাল্লা স্থলবন্দরের হালফিল অবস্থা জানার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কার্যালয়সহ কয়েকটি দপ্তরে যোগাযোগ করেও তা জানা সম্ভব হয়নি।

১৯৫১ সালে চুনারুঘাট উপজেলার সীমান্তর্বতী বাল্লা নামক স্থানে ৪ দশমকি ৩৭ একর জায়গা নিয়ে বাল্লা চেকপোষ্ট চালু করা হয়। র্দীঘদিন বন্ধ থাকার পর ১৯৯১ সালে পুনরায় তা চালু করা হয়। সেই শুল্ক বন্দরটি দিয়ে মাঝে মধ্যে সিমেন্ট রপ্তানী হয়ে থাকে। কিছু কিছু লোকজনও ত্রিপুরার সাথে যাতায়াত করেন। দুই দেশের সীমান্ত দিয়ে বয়ে চলছে খোয়াই নদী। বর্ষায় নৌকা আর শুকনো মৌসুমে শ্রমিকরা মাথা ও কাঁধে করে পণ্য আনা-নেয়া করে থাকেন। ফলে এক দিকে ঝুঁকি অন্যদিকে আমদানি ও রপ্তনীকারকদের অর্থ ব্যয় হচ্ছে বেশী।

২০১২ সালরে ১১ জুন দুই দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দল কেদারাকোট এলাকাটি পরর্দিশন করেন। এরপর আরো কয়েক দফা পরিদর্শন করেন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। পরির্দশন শেষে উভয়েই শুল্ক স্টেশনের অদুরে যেখানে খোয়াই নদী নেই সেই কেদারাকোটে স্থলবন্দর করার ব্যাপারে উভয়পক্ষই একমত হয।

২০১৭ সালে ৮ জুলাই স্থলবন্দর র্কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তী হবিগঞ্জে এক মতবনিমিয় সভায় জানান, ওই বছরে একনেক সভায় স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠার অনুমোদন পেয়েছে। অবকাঠামো তৈরীর জন্য অর্ষও বরাদ্দ হয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালরে ৩১ মার্চ তৎকালিন নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান হবিগঞ্জে এক মতবিনিময় সভায় বাল্লায় নতুন স্থল বন্দর নির্মাণ কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হবে বলে ঘোষনা দিয়েছিলেন।

এ দিকে, স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০১৮ সালের জুলাইয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে ২১ একর জমি অধিগ্রহণরে জন্য প্রস্তাব পাঠায়। কিন্তু প্রস্তাবিত জমিতে বসতবাড়ি থাকায় আপত্তি জানান স্থানীয়রা। এ অবস্থায় থমকে যায় পুরো প্রক্রিয়া।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, বসতবাড়ি বাদ দিয়ে খালি জায়গায় যেখানে প্রভাবশালীরা আগে ভাগেই জমি কিনে বেশী মুনাফা লাভের আশায় দখলে রেখেছে সেখানে স্থলবন্দরটি নির্মাণে তাদের কোন বাধা নেই। কিন্তু বাড়িঘর উচ্ছদে করতে হলে তাদেরকে স্থায়ী পুর্নবাসন করতে হবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহরিুল ইসলাম গত বছর বলেছিলেন, চুনারুঘাট থেকে কেদারাকোট পর্যন্ত দুই লেনের রাস্তা নির্মাণের পক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই মাঝে সংশ্লিষ্ট বিভাগ সড়কে নানান ধরনের মাপ জোকও সম্পন্ন করে কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হবার পরও স্থলবন্দরের কাজ, সড়কের কাজে হাত দিতে পারছেনা কর্তৃপক্ষ।

হবিগঞ্জ-৪ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য, বেসামরিক পরিবহন বিমান ও পর্যটন প্রতি মন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, অচিরেই বাল্লা স্থলবন্দরের কাজ শুরু হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ওয়েবসাইটের কোন কনটেন্ট অনুমতি ব্যতিত কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com